আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ–এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং দেশের বৃহৎ এনজিও সংস্থা আশা’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সফিকুল হক চৌঁধুরী স্মরণে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সিজন-২ শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আশা ইউনিভার্সিটির পাশ্ববর্তী শ্যামলী পার্ক মাঠে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. রেজাউল করিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য মরহুম সফিকুল হক চৌঁধুরীর শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “মরহুম সফিকুল হক চৌঁধুরী ছিলেন স্বপ্ন দেখার সাহসী মানুষ এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য কারিগর। শিক্ষা ও মানবকল্যাণ—এই দুই স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি গড়ে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে। আজকের এই স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; এটি শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস। আমরা বিশ্বাস করি, মাঠের এই উদ্দীপনা একদিন সমাজ গঠনের শক্তিতেও রূপ নেবে। ক্রীড়ার মাধ্যমে সুস্থ মনন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা বিস্তারে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

টুর্নামেন্টে টারবু টাইটান্স, এলিট ইলেভেন, ভ্যালুসিটি ইলেভেন ও ক্লাসিক স্টার—এই চারটি দল অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী ম্যাচে এলিট ইলেভেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে টারবু টাইটান্স। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও প্রক্টর জনাব আশরাফুল হক চৌঁধুরী, রেজিস্ট্রার মোছা. জিনাত তারা এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা প্রতিষ্ঠা করেন মোঃ সফিকুল হক চৌধুরী। তিনি আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সহ আশা ম্যাটস এবং হোপ ফর দ্য পুওরেস্ট-এরও প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সফিকুল হক চৌধুরী ১৯৪৯ সালে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নরপতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে সমাজ বিজ্ঞানে বিএ ও ১৯৬৯ সালে সমাজ বিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জনকরে বিসিএস ১৯৭৩ ব্যাচের প্রবেশনারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে পরে চাকুরীতে যোগদান করেননি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আশা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ উনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।